প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু সব সময় ছিল ঢাকা। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই নগরী। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সবার নজর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে। এই নির্বাচনে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে প্রস্তত হচ্ছে তরুণদের রাজনৈতিক দল 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' (এনসিপি)।
ঢাকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে (১৮৬৪ সালে) ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির যাত্রা শুরু হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) এটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে শুরু করে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম এই ঢাকাকে এক নতুন রাজনৈতিক পরিচয় দেয়। পাকিস্তান আমলে এবং স্বাধীনতার পর ঢাকা পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়া পর্যন্ত এই শহরটি অনেক রাজনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিয়েছে।
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দুই সিটি কর্পোরেশনে পালাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব রাজনীতির ধারা বদলে দিয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এখন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রথাগত বড় দলগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এনসিপি। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে যেমন শিক্ষিত তরুণরা ব্রিটিশদের চ্যালেঞ্জ করেছিল, ২০২৬ সালের এই ঢাকাও এখন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের অপেক্ষায়।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া সমন্বয়ক মাহবুব আলম যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আসন্ন সিটি নির্বাচনে ঢাকার দুই সিটিতে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মাঠে নামাচ্ছে দলটি।
প্রাথমিক বাছাই অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে লড়বেন দলটির জনপ্রিয় মুখ ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে লড়বেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের পরবর্তী বৈঠকে জানানো হবে।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, রমজানের পরেই সিটি নির্বাচন হবে—এমনটি ধরে নিয়েই তারা প্রস্তুতি সারছেন। এই আলোচনায় ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে লড়াই করা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামও রয়েছে।
এনসিপি সূত্র বলছে, সংসদ নির্বাচনের মতো সিটি নির্বাচনেও তারা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা করে অংশ নেবে। মেয়র পদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ে খুব শীঘ্রই জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে এনসিপি। মূলত জোটবদ্ধভাবে ঢাকার মসনদ জয় করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় ঢাকার মেয়র পদটি সব সময় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করেছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মতো তরুণ নেতার মেয়র পদে লড়াই করাটি মূলত জুলাই বিপ্লবের চেতনারই প্রতিফলন। এনসিপি ও জামায়াতের এই নির্বাচনী সমঝোতা ঢাকার ভোট ব্যাংককে নতুনভাবে মেরুকরণ করবে। তবে বড় দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা এবং জোটের ঐক্য শেষ পর্যন্ত কতটুকু অটুট থাকে, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ সালের ঢাকার ভাগ্য।
সূত্র: যুগান্তর, গুগল নিউজ আর্কাইভ (ঢাকা পলিটিক্স ১৯০০-২০২৬), এনসিপি মিডিয়া সেল এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |